আপনি কি গাক এনজিও লোন পদ্ধতি, গাক লোনের শর্ত, যোগ্যতা, সুদের হার ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান? বাংলাদেশের গ্রামীণ ও শহুরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক) একটি শীর্ষস্থানীয় এনজিও। ১৯৮৯ সালে বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থা জামানতবিহীন ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ পরিবারকে স্বাবলম্বী করেছে। এই আর্টিকেলে আমরা ২০২৫ সালের হালনাগাদ তথ্য দিয়ে গাক এনজিও লোন পদ্ধতি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ গাইড দিচ্ছি।
গাক এনজিও কি? সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
- প্রতিষ্ঠা: ১৯৮৯ সাল, প্রতিষ্ঠাতা খন্দকার আলমগীর হোসেন
- প্রধান কার্যালয়: গাক টাওয়ার, বনানী, বগুড়া
- কার্যক্রম: ৬৪ জেলায় শাখা, প্রায় ১০ লক্ষ+ সদস্য
- অংশীদার: পিকেএসএফ, ইফাদ, ডানিডা ইত্যাদি
- ওয়েবসাইট: www.guk.org.bd

গাক এনজিও লোন পদ্ধতি ২০২৫ – ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া
গাক থেকে লোন নেওয়া খুবই সহজ ও দ্রুত। পুরো প্রক্রিয়া নিচে ধাপে ধাপে দেওয়া হলো:
- সদস্যপদ গ্রহণ → নিকটস্থ গাক শাখায় গিয়ে সঞ্চয় খাতা খুলুন
- গ্রুপে যোগদান → ৫-২৫ জনের গ্রুপ গঠন (সামাজিক জামিন)
- আবেদন ফরম পূরণ → শাখা থেকে ফরম সংগ্রহ করুন
- কাগজপত্র জমা → এনআইডি, ছবি, গ্যারান্টরের তথ্য
- ফিল্ড ভেরিফিকেশন → গাক কর্মকর্তা বাড়ি/ব্যবসা পরিদর্শন করবেন
- লোন অনুমোদন → ৩-১৫ কর্মদিবসের মধ্যে
- টাকা বিতরণ → বিকাশ/নগদ/ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অথবা হাতে হাতে
- কিস্তি পরিশোধ → সাপ্তাহিক অথবা মাসিক
গাক এনজিও লোনের শর্ত ও যোগ্যতা ২০২৫
| বিষয় | শর্ত/যোগ্যতা |
|---|---|
| বয়স | ১৮-৬০ বছর |
| নাগরিকত্ব | বাংলাদেশী, স্থায়ী বাসিন্দা |
| আয়ের উৎস | স্থিতিশীল আয় অথবা ব্যবসায়িক পরিকল্পনা |
| ঋণখেলাপি | কোনো ব্যাংক/এনজিওতে খেলাপি হলে আবেদন বাতিল |
| জামিনদার | ১ জন বিশ্বস্ত গ্যারান্টর আবশ্যক |
| জামানত | না (গ্রুপ গ্যারান্টি সিস্টেম) |
| সদস্যপদ | গাক এর সদস্য হতে হবে |
- পূরণকৃত আবেদন ফরম
- জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি (আবেদনকারী + গ্যারান্টর)
- ২ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- আয়ের প্রমাণ (যদি থাকে)
- গ্যারান্টরের এনআইডি ও ছবি
গাক এনজিও থেকে কত টাকা লোন পাওয়া যায়?
- প্রথম লোন: ১০,০০০ – ৫০,০০০ টাকা
- নিয়মিত কিস্তি দিলে পরবর্তীতে: ১-৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত
- সর্বোচ্চ সীমা আয় ও পরিশোধ ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে
গাক এনজিও লোনের সুদের হার ২০২৫
সাধারণত বার্ষিক ১৪% – ২৪% (ফ্ল্যাট রেট/ডিক্লাইনিং)। সঠিক হার জানতে নিকটস্থ শাখায় যোগাযোগ করুন।
গাক লোন কিস্তি ব্যবস্থা (উদাহরণ)
| লোনের পরিমাণ | কিস্তির ধরন | প্রতি কিস্তি | মেয়াদ |
|---|---|---|---|
| ১০,০০০ টাকা | সাপ্তাহিক | ২৫০-৩৫০ টাকা | ১ বছর |
| ৩০,০০০ টাকা | মাসিক | ২,৮০০-৩,২০০ টাকা | ১ বছর |
| ৫০,০০০ টাকা | মাসিক | ৪,৫০০-৫,৫০০ টাকা | ১ বছর |
- জামানত লাগে না
- স্বল্প সুদের হার
- মাত্র ৩-১৫ দিনে লোন
- নারীদের অগ্রাধিকার
- ফ্রি ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ
- সাপ্তাহিক/মাসিক নমনীয় কিস্তি
গাক এনজিওর শাখা ও যোগাযোগ
- শাখা: ৬৪ জেলায় ৫০০+ শাখা
- ওয়েবসাইট: www.guk.org.bd
- প্রধান কার্যালয়: গাক টাওয়ার, বনানী, বগুড়া
সাফল্যের গল্প
রাঙ্গামাটির ফুল কুমার চাকমা গাক থেকে ২০,০০০ টাকা লোন নিয়ে মুদি দোকান শুরু করেন। আজ তিনি মাসে ১৫,০০০+ টাকা আয় করছেন। এমন হাজারো গল্প গাকের সাফল্য প্রমাণ করে।
প্রায়শ্জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: গাক লোন পেতে কতদিন লাগে? উত্তর: ৩-১৫ কর্মদিবস
প্রশ্ন: জামানত লাগবে কি? উত্তর: না, গ্রুপ গ্যারান্টি যথেষ্ট
প্রশ্ন: অন্য এনজিওর লোন থাকলে গাক থেকে লোন পাব? উত্তর: সম্ভব, তবে খেলাপি হলে পাবেন না
শেষ কথা
গাক এনজিও লোন পদ্ধতি বাংলাদেশের দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ক্ষুদ্র ঋণ স্কিমগুলোর একটি। সহজ শর্ত, কম সুদ ও দ্রুত প্রক্রিয়ার কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ এর সুফল পাচ্ছে। আপনি যদি গাক এনজিও লোন নিতে চান তাহলে আজই নিকটস্থ শাখায় যোগাযোগ করুন। আর্টিকেলটি কেমন লাগলো? কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করুন!




