কম সুদে এনজিও লোন নিয়ে ভাবছেন? বাংলাদেশে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কৃষক, ন115 মহিলা উদ্যোক্তা ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এনজিও লোন একটি জীবন বদলে দেওয়ার মতো আর্থিক সহায়তা। ব্যাংকের ঝামেলা ছাড়া, জামানত ছাড়া এবং কম সুদে ঋণ পাওয়া যায় বলেই লাখো মানুষ এই লোনের উপর ভরসা করে। এই আর্টিকেলে আমরা হালনাগাদ তথ্য দিয়ে জানাবো
১. এনজিও লোন কত প্রকার ও কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত?
বাংলাদেশে এনজিওগুলো বিভিন্ন প্রয়োজনের জন্য ৬টি প্রধান ধরনের লোন দেয়:
- ক্ষুদ্র ঋণ (Microcredit) – ছোট ব্যবসা, দোকান, হাঁস-মুরগি পালন, মুদি দোকানের জন্য। সবচেয়ে জনপ্রিয়।
- কৃষি ঋণ – বীজ, সার, পাম্প, ট্রাক্টর কেনা বা ফসল চাষের জন্য।
- ব্যবসায়িক ঋণ (SME/MSME) – দোকান বড় করা, নতুন ব্যবসা শুরু করার জন্য।
- নারী উদ্যোক্তা লোন – শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য। সুদের হার কম এবং অগ্রাধিকার বেশি।
- গ্রুপ লোন – ৫-১৫ জনের গ্রুপ করে নেওয়া হয়। একে অপর গ্যারান্টর।
- ব্যক্তিগত/জরুরি লোন – চিকিৎসা, বিয়ে, শিক্ষা খরচের জন্য।
আরও জানতে পারেনঃ সেবা এনজিও লোন – যোগ্যতা, আবেদন পদ্ধতি, সুদের হার ও সর্বশেষ তথ্য
২. কম সুদে এনজিও লোন দেয় কোন কোন প্রতিষ্ঠান? ( আপডেট)
| এনজিওর নাম | সুদের হার (প্রায়) | সর্বোচ্চ লোন | বিশেষত্ব |
|---|---|---|---|
| আশা (ASA) | ২২% – ২৫% | ৫০ হাজার – ২০ লাখ | সবচেয়ে দ্রুত প্রক্রিয়া |
| ব্র্যাক (BRAC) | ১৫% – ২২% | ৩০ হাজার – ৫০ লাখ | নারীদের জন্য স্পেশাল প্রকল্প |
| গ্রামীণ ব্যাংক | ২০% (ফ্ল্যাট) | ১০ লাখ পর্যন্ত | গ্রুপ লোনের জনক |
| উদ্দীপন | ১১% – ১৯% | ১০ লাখ পর্যন্ত | সবচেয়ে কম সুদ (কিছু ক্ষেত্রে) |
| প্রশিকা | ২০% – ২৪% | ১৫ লাখ পর্যন্ত | কৃষি ও ব্যবসায়িক লোন বেশি |
| টিএমএসএস (TMSS) | ১৮% – ২৩% | ২০ লাখ পর্যন্ত | উত্তরবঙ্গে খুব শক্তিশালী |
| বুড়ো | ১২% – ১৮% | ১০ লাখ পর্যন্ত | কিছু প্রকল্পে ১২% পর্যন্ত |
বিশেষ সুবিধা: বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণোদনা প্যাকেজের কারণে অনেক এনজিও এখনও ১৪%-১৬% সুদে লোন দিচ্ছে (বিশেষ করে কৃষি ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য)।
আরও জানতে পারেনঃ নগদ থেকে লোন নেওয়ার উপায়
৩. কম সুদে এনজিও লোন পাওয়ার যোগ্যতা
- বয়স: ১৮-৬৫ বছর
- জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে
- স্থায়ী ঠিকানা ও ব্যবসা/আয়ের উৎসের প্রমাণ
- অনেক ক্ষেত্রে এনজিওতে সঞ্চয় হিসাব থাকা লাগে (১,০০০-৫,০০০ টাকা)
- গ্রুপ লোন হলে ৫-১৫ জনের গ্রুপে থাকতে হবে
৪. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (সবচেয়ে সহজ লিস্ট)
- ২ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- NID কার্ডের ফটোকপি
- বিদ্যুৎ/গ্যাস বিলের কপি (ঠিকানার প্রমাণ)
- গ্যারান্টরের NID ও ছবি (১-২ জন)
- ব্যবসার ছবি/ট্রেড লাইসেন্স (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
৫. আবেদন প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে (৭-১৫ দিনে লোন হাতে!)
- নিকটস্থ এনজিও শাখায় যান
- ফিল্ড অফিসারের সাথে কথা বলুন
- আবেদন ফরম পূরণ করুন
- কাগজপত্র জমা দিন
- ফিল্ড অফিসার আপনার বাড়ি/ব্যবসা ভিজিট করবে
- অনুমোদন হলে টাকা বিকাশ/ব্যাংকে চলে আসবে
৬. কম সুদে এনজিও লোনের সবচেয়ে বড় সুবিধা
- জামানত লাগে না
- কম সুদ (ব্যাংকের থেকে ১০-১৫% কম)
- সাপ্তাহিক কিস্তির সুবিধা
- ১২-২৪ ঘণ্টায় লোন (কিছু ক্ষেত্রে)
- মহিলাদের জন্য বিশেষ ছাড়
- কোনো লুকানো চার্জ নেই
শেষ কথা: সঠিক সিদ্ধান্ত নিন
কম সুদে এনজিও লোন সত্যিই জীবন বদলে দেয়। কিন্তু মনে রাখবেন – ঋণ নেওয়ার আগে:
- সুদের হার ও কিস্তি ভালো করে বুঝে নিন
- শুধুমাত্র আয়বর্ধক কাজে ব্যবহার করুন
- নিয়মিত কিস্তি দিয়ে ক্রেডিট স্কোর ভালো রাখুন (পরে বেশি লোন পাবেন)
আপনার এলাকায় কোন এনজিও সবচেয়ে ভালো সার্ভিস দেয়? কমেন্টে জানান। আর যদি এই আর্টিকেলটি ভালো লাগে তাহলে শেয়ার করুন যাতে আরো মানুষ উপকৃত হয়।




